• Hotline: +88 01813 758599 , +88 01321 228468
  • Address: 4E/A (1st Floor), 1st Colony, Mazar Road, Mirpur, Dhaka-1216.Telephone: 02226623920.

মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় যে ভুলগুলো ঘটে থাকে

প্রশ্ন : আমরা দেখি, কিছু কিছু ইহরামকারী মসজিদে হারামে প্রবেশ করার সময় এমন কিছু দোয়া পড়ে থাকেন যে দোয়াগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি। তাছাড়া তারা নির্দিষ্ট একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করা আবশ্যক মনে করেন। এ আমলটা কি সঠিক?

উত্তর : আলহামদু লিল্লাহ। এগুলো এমন কিছু ভুল মসজিদে হারাম প্রবেশ করার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো ঘটে থাকে। এ ভুলগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

এক:

কিছু কিছু মানুষ ধারণা করে যে, হজ্জ বা উমরা পালনেচ্ছু ব্যক্তিকে মসজিদে হারামের নির্দিষ্ট একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। উদাহরণতঃ কেউ কেউ মনে করে— সে যদি উমরা পালনেচ্ছু হয় তাকে অবশ্যই যে গেটকে ‘বাবুল উমরা’ (উমরা গেট) বলা হয় সে গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, তাকে অবশ্যই এটা করতে হবে কিংবা এটি শরিয়তের বিধান। অপর একদল আছেন যারা মনে করেন তাকে অবশ্যই ‘বাবুস সালাম’ (সালাম গেট) দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, অন্য গেট দিয়ে প্রবেশ করা গুনাহ কিংবা মাকরূহ। এ ধারণার কোন ভিত্তি নেই। বরং হজ্জ ও উমরা পালনেচ্ছু ব্যক্তি যে কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে তখন ডান পা এগিয়ে দিবে এবং সকল মসজিদে প্রবেশ করার সময় যে দোয়া পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে সে দোয়াটি পড়বে। তথা সে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে এবং বলবে:

اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك

অনুবাদ: “হে আল্লাহ্‌ আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।”[সহিহ মুসলিম (৭১৩)]

দুই:

কিছু কিছু মানুষ মসজিদে প্রবেশ করার সময় এবং কাবাগৃহ দেখার সময় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পড়ে বিদাত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি এমন কিছু দোয়া দিয়ে সেই ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করে। এটি বিদাতী কর্ম। কেননা যে কথা, কাজ কিংবা বিশ্বাস এর ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীবর্গ ছিলেন না সেটা দিয়ে আল্লাহ্‌র ইবাদত করা বিদাত ও পথভ্রষ্টতা। এর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করেছেন।

তিন:

হাজী ছাড়া অন্য কিছু মানুষও ভুল করেন। কিছু কিছু ফিকাহবিদ আলেমের উক্তি “মসজিদে হারামের সুন্নত হচ্ছে- তাওয়াফ” এর ভিত্তিতে তারা বিশ্বাস করেন যে, মসজিদে হারামের তাহিয়্যা (সম্ভাষণ) হচ্ছে— তাওয়াফ আদায় করা। অর্থাৎ যে ব্যক্তিই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে তার জন্য তাওয়াফ করা সুন্নত। অথচ প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এমন নয়। বরং এক্ষেত্রে মসজিদে হারামও অন্য সকল মসজিদের ন্যায়; যে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দুই রাকাত নামায না-পড়ে না-বসে”।[সহিহ বুখারী (৪৪৪) ও সহিহ মুসলিম (৭১৪)]

কিন্তু, আপনি যদি তাওয়াফ করার উদ্দেশ্য মসজিদে হারামে প্রবেশ করেন সেটা হজ্জ-উমরার তাওয়াফ হোক কিংবা হজ্জ-উমরা ছাড়া অন্য সাধারণ নফল তাওয়াফ হোক সেক্ষেত্রে আপনি দুই রাকাত নামায না পড়ে তাওয়াফ করাই যথেষ্ট। এটাই হচ্ছে আমাদের উক্তির মর্ম: “মসজিদে হারামের তাহিয়্যা (সম্ভাষণ) হচ্ছে- তাওয়াফ”। অতএব, আপনি যদি তাওয়াফের নিয়ত ব্যতীত অন্য নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করেন যেমন- নামাযের জন্য অপেক্ষা, কিংবা কোন দারসে হাযির হওয়া কিংবা অনুরূপ অন্য কোন নিয়তে সেক্ষেত্রে মসজিদে হারাম অন্য যে কোন মসজিদের মত; আপনি বসার আগে দুই রাকাত নামায পড়বেন; এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ থাকার কারণে।”



সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব